বিশেষ প্রতিনিধি: ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আসামিদের ফেরত আনা সম্ভব। তবে এ জন্য আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। আসামিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে ভারত সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপি। রোববার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ সব কথা বলেন তিনি
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আসামিদের ফেরত আনার জন্য যে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে, তা আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় রয়েছে, একই সঙ্গে রাজনৈতিক সদিচ্ছাও থাকতে হবে। ভারত সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করে বাংলাদেশ। শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে, তার ভিত্তিতেই আসামিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী আসামিদের ফেরত আনা সম্ভব।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্রান্সিসকো সফরে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বৈঠকের বিষয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, মাত্র দুই দিনের সফরে ১৫টির বেশি বৈঠক হয়েছে। গুগল, অ্যাপল, মেটা, সিসকো, এনভিডিয়া ও অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাত, বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে মেটার অফিস খোলার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান তিনি। শামা ওবায়েদ বলেন, মেটার সঙ্গে নিউইয়র্ক ও স্যান ফ্রান্সিসকো দুই জায়গাতেই বৈঠক হয়েছে।
বাংলাদেশে মেটার অফিস খোলার জন্য তাদের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিষয়টি মেটার বিবেচনায় রয়েছে এবং তারা ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফেসবুকের অন্যতম বৃহৎ ব্যবহারকারী দেশ। দেশে মেটার অফিস থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা এবং প্রতিষ্ঠানটির জবাবদিহি নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।
সিলিকন ভ্যালি সফরের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অর্থনীতিতে এগিয়ে নেওয়া। এ সময় বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট স্থাপন এবং তরুণদের দক্ষতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এনভিডিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইনটেলের সঙ্গেও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠান যেভাবে চীনে আইফোন ও অন্যান্য ডিভাইস উৎপাদন করছে, বাংলাদেশের বিপুল জনশক্তি ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দেশেও এ ধরনের ম্যানুফ্যাকচারিং হাব গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
সফরে ইউসি বার্কলে ও অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির সঙ্গেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের আলোচনা হয়েছে। ইউসি বার্কলে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করতে আগ্রহী এবং এর খসড়া তৈরির কাজ চলছে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর স্যান ফ্রান্সিসকো সফর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্যান ফ্রান্সিসকো যাওয়ার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে প্রয়োজনীয় দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক শেষ করে তিনি দেশে ফিরেছেন। গুজবে কান না দিয়ে সত্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্ব হচ্ছে তথ্য যাচাই করে সঠিক সংবাদ প্রকাশ করা। তিনি আরও জানান, আগামীতে তুরস্ক সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কখন কোথায় সফর করবেন, তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।