
২০১১ সালে গ্রাম পুলিশকে চতুর্থ শ্রেণির ন্যায় ১৯ ও ২০ তম গ্রেডে অন্তর্ভুক্তির,অত্যন্ত জনবান্ধব একটি সিদ্ধান্ত, মহামান্য হাইকোর্টের সেই রায় আজ বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে মন্তব্য করেন সংগঠনের সভাপতি এস এম জিয়াউল হক। শনিবার (২০ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে মৌলানা আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ কল্যাণ সংস্থার দিন ব্যাপী কর্মশালা ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন
এস এম জিয়াউল হক বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে বাহিনীটি ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালন করে আসছে। আমরা সেই হতভাগা গ্রাম পুলিশ বাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। তিনি বলেন,২০১১ সালে তৎকালীন সরকার অত্যন্ত জনবান্ধব একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ বাহিনীর জাতীয় বেতন স্কেলের চতুর্থ শ্রেণির ন্যায় ১৯ ও ২০ তম গ্রেডে অন্তর্ভুক্তকরণ করা হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সরকারির সেই আদেশ বা সিদ্ধান্ত আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি, মামলাতান্ত্রিক জটিলতার বেরাজালে ফাইল বন্দি হয়ে আছে।
এস এম জিয়াউল হক বলেন,আমাদের এই ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত করার পর, আমরা বাধ্য হয়ে আদালতের দারম্ভ হই। দীর্ঘ শুনানির পর, ২০১৯ সালে মহামান্য হাইকোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায়ে গ্রাম পুলিশ বাহিনীকে চতুর্থ শ্রেণির সমমর্যাদায় ১৯ ও ২০ তম গ্রেডে অন্তভূক্তকরণ করে হাল সহ বকেয়া বেতন ভাতা প্রদানের জন্য সরকারকে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন,মহামান্য হাইকোর্টের সেই রায় আজ বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়ন করা হয়নি। উল্টো বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ সময় ধরে ঘূর্ণিয়মান বা ঝুলে রয়েছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আজম বলেন, আইনের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত হাজার হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্য এবং তাদের পরিবার আজ চরম আর্থিক অনাহার, অধাহার ও মানবেতর জীবন পার করছে। দ্রব্যমূল্যের এই উর্ধ্বগতির বাজারে দফাদার ৮০০০/- এবং গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) ৭,৫০০/- টাকায় একটি পরিবার কিভাবে চলতে পারে, তা আপনারা সহজেই অনুধাবন করতে পারেন।
তিনি বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা বিশ্বাস করি, মহামান্য আদালত আমাদের নিরাশ করবেন না। তবে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা এবং আপিল বিভাগের এই ধীর গতির কারণে সাধারণ সদস্যদের মাঝে তীব্র খুব ও ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। আমাদের আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে স্পষ্ট দাবি-
১. সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ঝুলে থাকা আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পূর্ণ করে ২০১৯ সালের মহামান্য হাইকোর্টের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. ২০১১ সালের সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রাম পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে অনতিবিলম্বে জাতীয় বেতন স্কেলের চতুর্থ শ্রেণীর স্কেলের ন্যায় ১৯ ও ২০ তম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
আমরা আশা করি বর্তমান সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের এই মানবিক ও আইনি দাবি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন। অন্যথায় পেটের দায়ে এবং পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য গ্রাম পুলিশ বাহিনীর কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এস এম জিয়াউল হক। বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক ফারুক আজমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।