জীবন আহমেদঃ চলমান তাপদাহে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রায় ৪০টি জেলার ওপর দিয়ে এই পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে এবং কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরেও রেকর্ড করা হয়েছে। তীব্র গরম ও আর্দ্রতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় তাপপ্রবাহের তীব্রতা বেশি। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাসহ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের যে তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে তা আগামী ৫ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। ৫ জুনের পর থেকে চলমান তাপ প্রবাহ কিছুটা প্রশমিত হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। তবে বৈশ্বিক আবহাওয়ায় এল নিনোর প্রভাবে গড় বৃষ্টিপাত হ্রাস পাওয়ার এবং উষ্ণতা বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে এবছর আরো একাধিক তাপ প্রবাহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। অতিরিক্ত গরমের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে রোদ এড়িয়ে চলা এবং প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তৃষ্ণা না পেলেও দিনে অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করুন। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন। বাইরে বের হলে ছাতা ও সুতির হালকা রঙের পোশাক ব্যবহার করুন। বাইরের খোলা খাবার, শরবত ও বাসি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ঘরে তৈরি খাবার, ডাবের পানি ও তাজা ফলের রস খাওয়ার অভ্যাস করুন। তাপদাহে শিশু ও বয়স্করা হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতায় (Dehydration) বেশি ভোগেন, তাই তাদের প্রতি বিশেষ নজর রাখুন। প্রচণ্ড গরমে শিশুর পানিশূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত তরল খাবার ও পানি খাওয়ান। আরামের জন্য সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরাবেন। শিশুদের অতিরিক্ত ঘাম মুছে শুকনো রাখুন এবং নিয়মিত গোসল করান। গরমে শিশুর সঠিক যত্ন নিশ্চিত করতে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুকে শুধু বুকের দুধ খাওয়ান। বড় শিশুদের ঘন ঘন বিশুদ্ধ পানি, ফলের রস ও ডাবের পানি দিন। বাইরের অস্বাস্থ্যকর পানীয় বা শরবত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। ঘামাচি ও র্যাশ এড়াতে সুতি ও হালকা রঙের পোশাক পরান। ঘর ঠাণ্ডা ও বাতাস চলাচল উপযোগী রাখুন। এসি বা ফ্যানের বাতাসে সরাসরি না রেখে, আরামদায়ক তাপমাত্রা বজায় রাখুন। গরমে সহজে হজম হয় এমন তাজা ও পুষ্টিকর খাবার যেমন— পাকা পেঁপে, কলা, বা দই খাওয়ান। বেশি মশলাদার বা বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন। ঘাম বসলে ঠান্ডা লাগা বা ত্বকে চুলকানি হতে পারে। তাই ঘামলে সাথে সাথে নরম সুতি কাপড় বা গামছা দিয়ে শিশুর শরীর মুছে দিন।