বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল রাজশাহীর সাবেক দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে তারা হলেন, জনপ্রশাসন থেকে শূন্য পদে নিয়োগ পাওয়া পাকশীর সাবেক ভু-সম্পত্তি কর্মকর্তা (ডিইও) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এবং রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মামুনুল ইসলাম।
নুরুজ্জামান পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্নসচিব পদে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজে লাভবান হয়ে বিনা টেন্ডারে নামমাত্র মূল্যে ৬ হাজার একর জলাশয় লিজ দিয়ে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা লোকসান করেছে।
এ ঘটনায় মহিউদ্দিন বাদী হয়ে চলতি বছরের ১৫ মে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। দুদকে করা অভিযোগে বলা হয় ২০১৯ থেকে২০২৪ সাল পর্যন্ত নুরুজ্জামান পাকশীর বিভাগীয় এটেস্ট অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্ব পালনকালে একক ক্ষমতা বলে পিপিআর ২০০৮ এবং পিপিএ ২০০৬ অনুযায়ী তিনি বিনা ট্যান্ডারে রেলের জলাশয়( পুকুর ) অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি করে রফাদফায় লিজ প্রদান করেন।
অভিযোগ আরো জানা যায়, তিনি নিজে লাভবান হয়ে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা ক্ষতিসাধন করেছে যা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দুদক আইনের পরিপন্থী। বাদী অভিযোগ করেন সাবেক ডিইও ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের সম্পদ লুটপাট-এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকা এবং জন্মস্থান খুলনায় নামে বেনামে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে। রেলওয়ে জমি লিজ জালিয়াতি মাধ্যমে এসব অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছে বলে অভিযোগে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তদন্তে মাঠে নেমেছে দুদক। রেলওয়ের আরেক কর্মকর্তা হলেন,পশ্চিমাঞ্চলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক(জিএম) বর্তমানে মামুনুল ইসলামকে বদলি করে রেলভবনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফায়জুল কবির খানের বরাবর ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ায় লিখিত অভিযোগ করেন নাটোরের মৎস হেছাড়ী লিজ গ্রহীতা গোলাম মোস্তফা। তিনি তার অভিযোগে উল্লেখ করেন আমার লিজের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে রাজস্ব প্রদানে গত ৬ এপ্রিল রাজশাহী রেল ভবন জিএম মামুনুল ইসলামের দপ্তরে যায়। তিনি আমার লিজের নথিপত্র দেখে ফাইল জমা রাখেন এবং তার পার্সোনাল মোবাইল নাম্বার লিজ গ্রহিতাকে দেন। যার নাম্বার ০১৭৭ ০১১০৭৮১। তিনি তার পার্সোনাল নাম্বার দিয়ে গোলাম মোস্তফাকে সাবেক ডিইও নুরুজ্জামানের রেফারেন্স দিয়ে লাইসেন্স বাতিলসহ বিভিন্নভাবে ভীতি প্রদর্শন করেন।
সব শেষ মামুনুল ইসলাম লাইসেন্স নবায়ন করতে ৩০ হাজার টাকা ঘূষ চান। টাকা না দিলে লাইসেন্স বাতিল করার হুমকি দেযন তিনি। অভিযোগকারী মোস্তফা ভয়ে পকেট থেকে নগদ বিশ হাজার টাকা বের করে দেন। তাতে তিনি রাজি নয় আরো দশ হাজার টাকা দাবি করেন। মোস্তফা বিনয়ের সাথে জানান, আমার কাছে আর কোন টাকা নাই। জিএম বললেন আজ না হলে কাল বিকাশে পাঠিয়ে দিবেন। পরের দিন উনার পার্সোনাল ০১৭৭০১১০৭৮১ এই বিকাশ নাম্বারে নাটোর বিকাশ দোকানের-০১৭২৫৫৭৩৩৩২ এই নাম্বার থেকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। সাবেক জিএম মামুনুল ইসলাম টাকা নিয়েছে কিন্তু গোলাম মোস্তফার কাজ না করে বদলি হয়ে রেল ভবনে চলে আসেন। ক্ষুব্ধ হয়ে বাদী রেল উপদেষ্টার কাছে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন চলতি বছরে ১৫ মে।
মামুনুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ মন্ত্রণালয় আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে প্রশাসন বিভাগ জানিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন পাকশীর সাবেক ডিইও নুরুজ্জামান এর বিরুদ্ধে মহিউদ্দিনের করা অভিযোগ তদন্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদক। নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৬ মে অভিযোগ করা হয়।