Sunday , 28 June 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. চাকরির খবর
  7. জাতীয়
  8. জীবনযাপন
  9. তথ্য ও প্রযুক্তি
  10. দুর্ঘটনা
  11. ধর্ম
  12. বিনোদন
  13. রাজনীতি
  14. শিক্ষা ও ক্যাম্পাস
  15. সম্পাদকীয়

এখানে মেয়ে নিয়ে খেলা দেখা যাবে না…………।

প্রতিবেদক
admin
June 28, 2026 3:33 pm
Link Copied!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল মাঠে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ খেলা দেখতে গিয়ে হল সংসদ নেতার হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন সাবেক ছয় শিক্ষার্থী। ২০১৮-১৯ সিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহতাসিন বিল্লাহ ইমন ফেইসবুকে লিখেছেন, শুক্রবার রাতে ফ্রান্স ও নরওয়ের খেলার দেখতে গেলে তাদের বের করে দেওয়া হয়, কারণ তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক নারী শিক্ষার্থী ছিলেন। যার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, সেই সাজু মিয়া হল ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক; তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সাজু স্বীকার করেছেন যে তারা ওই সাবেক শিক্ষার্থীদের হল থেকে বেরিয়ে যেতে বলেছেন। তবে ‘নারী হেনস্তার’ কথা অস্বীকার করেছেন। তবে এ ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সুফিয়া কামাল হল সংসদ, ছাত্রদল এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী এর প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের শাস্তি দাবি করেছে।অভিযোগকারী মুহতাসিন বিল্লাহ ইমন ‘ঢাবি ক্যাম্পাসে কি মববাজদের থেকে আমরা ঢাবিয়ানরাই নিরাপদ?’ শিরোনামে তার ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, “আমরা নিয়মানুযায়ীই হলের রেজিস্ট্রার খাতায় নাম লিখিয়ে শহীদুল্লাহ হলে প্রবেশ করি। সেখানে খেলার আগে বসেছিলাম, অনেকদিন পরে ক্যাম্পাসে আসায় আড্ডা দিচ্ছিলাম। “হঠাৎ করে ৪ জন শিক্ষার্থী এসে আমাদের জিজ্ঞেস করে,‘ আপনারা কি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী?’ আমরা শান্ত ভাবেই বলি, জি আমরা ১৬-১৭, ১৭-১৮ ও ১৮-১৯ সেশনের। ফ্রান্স ও নরওয়ের খেলা দেখতে আসছি।” ইমন বলেন, “হঠাৎ করে, তাদের মধ্যে একটা ছেলে বলে, ‘আপনারা কোন লজিকে একটা মেয়ে নিয়ে বয়েজ হলে খেলা দেখতে আসছেন?’ আমরা তারপরও শান্ত ভাবে বলি, ভাইয়া আমরা তোমার ক্যাম্পাসেরই সিনিয়র, ২২ সালেও আমরা এখানে ওয়ার্ল্ডকাপ খেলা দেখতে আসছি। “আমাদের সাথে যে শহীদুল্লাহ্ হলের ছিল, সে বলে, ‘আমাদের সাথে যে আপু উনিও ক্যাম্পাসেরই। আর তার আপন ছোট ভাই তোমাদের হলেরই ২২-২৩ সেশনের আবাসিক শিক্ষার্থী’।” এ সময় ওই চারজনের পাশে আর আট-নয়জন এসে ঘিরে ধরে ‘চাপ প্রয়োগ করার চেষ্টা করে’ বলে অভিযোগ করেন ইমন। তিনি বলেন, “এর মাঝেই একজন নিজেকে পরিচয় দেয় সে এই হলের সমাজসেবা সম্পাদক, পরে জানতে পারি তার নাম সাজু। তার পাশে হল সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক পরিচয় দেওয়া আরেকটা ছেলে বলা শুরু করে, ‘ভাইয়া হলের ছেলেপেলেরা যদি আপনাদের ছবি তুলে হলের গ্রুপে পোস্ট করে গালিগালাজ করে সেটা কি ভালো হবে? “আমি তখন বলার চেষ্টা করি, কেউ আমাদের ছবি তোলার জন্য আমরা ভয় পাওয়ার কী আছে? আর সেখানে যদি কেউ আমাদেরই বিনা কারণে গালি গালাজ করে, হল সংসদের প্রতিনিধি হিসেবে তারা কোথায় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত?” খেলা দেখতে আসার সময় সঙ্গে ‘মেয়ে’ থাকায় হুমকি দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে ইমন লিখেছেন, “হঠাৎ করে সাজু নামে ছেলেটা উচ্চস্বরে এবং খুবই উগ্রভাবে বলে উঠে, ‘আপনাদের আর ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না। আপনারা এখন ওঠেন আর বের হয়ে যান, এখানে মেয়ে নিয়ে থাকা যাবে না’। “তখন শাওন ভাই উঠে বলে, ভাইয়া, তুমি যাকে মেয়ে মেয়ে বলছ ও আমার স্ত্রী আর তুমি কি কাইন্ডলি তোমার পরিচয় দিবা? আমরাও জানি যে কে আমাদের বের করে দিচ্ছে। তখন পাশের আরও ২-৩টা ছেলে বলাবলি শুরু করে, ভাই এই প্রোগ্রামটার অর্গানাইজার আমরা। আমাদের অনেক কিছু হ্যান্ডেল করা লাগে।” ইমন লিখেছেন, “আমরা আমাদের সাথে হওয়া এই হ্যারাসমেন্টের বিচার চাই। বিশ্বকাপের মতো একটা উৎসবের সময়ে এভাবে ক্যাম্পাসজুড়ে হওয়া মববাজির অবসান চাই। ক্যাম্পাসের ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও নিরাপদে খেলা দেখা নিশ্চিত হোক।”যার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, সেই সাজু মিয়া হল ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথে সম্পৃক্ততার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। হেনস্তা করার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে সাজু  বলেন, “আমরা তাদেরকে ভালোভাবে চলে যেতে বলি। তারা উল্টো আমাদের উপর রেগে যায়। আমরা মেয়ে নিয়ে কোন কথায় বলি নাই।” ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক মিফতাহুল মারুফও হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

সর্বশেষ - জাতীয়