Thursday , 2 July 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. চাকরির খবর
  7. জাতীয়
  8. জীবনযাপন
  9. তথ্য ও প্রযুক্তি
  10. দুর্ঘটনা
  11. ধর্ম
  12. বিনোদন
  13. রাজনীতি
  14. শিক্ষা ও ক্যাম্পাস
  15. সম্পাদকীয়

রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠল কিয়েভ

প্রতিবেদক
admin
July 2, 2026 2:15 pm
Link Copied!

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বৃহস্পতিবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ কেঁপে উঠেছে। এই হামলায়  অন্তত আট জন নিহত ও আরও বেশ কয়েকজন মানুষ আহত হয়েছেন।

এর আগে, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, মস্কো ‘বড় ধরনের হামলার’ প্রস্তুতি নিচ্ছে।

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে রাশিয়া নিয়মিতভাবেই কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত।

কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী রাজধানীমুখী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্কবার্তা দেওয়ার পর এ হামলা চালানো হয়। এর আগে, বুধবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসন্ন রুশ হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন জেলেনস্কি।

কিয়েভের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত এএফপির সাংবাদিকরা  বেশ কিছু সংখ্যক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এ সময় শিশু ও পোষা প্রাণী নিয়ে অনেক বাসিন্দাকে মেট্রো স্টেশনের আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যেতে দেখা যায়।

শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো বলেন, হামলায় আটজন নিহত ও শিশুসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তিনি বেসামরিক মানুষ ও আবাসিক এলাকায় ইচ্ছাকৃত হামলার নিন্দা জানান।

আঞ্চলিক গভর্নর মিকোলা কালাশনিক জানান, হামলায় বৃহত্তর কিয়েভ অঞ্চলের পাঁচটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি টেলিগ্রামে বলেন, ‘রাতের মধ্যে শত্রুপক্ষ আবারও কিয়েভ অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। এতে হামলাকারী ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, বুচা জেলায় একটি গুদাম ও একটি বাড়িতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি সেবাকর্মীরা কাজ করছেন। এছাড়া অঞ্চলের অন্য এলাকায় বাড়িঘর, একটি ছাত্রাবাস ও বিভিন্ন যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে বিমান হামলার সতর্কতা জারির সময় কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে একটি বিস্ফোরণ প্রত্যক্ষ করেন এএফপির এক সাংবাদিক। এরপর সেখানে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায়। ঘটনাস্থলে দমকলকর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছায়।

প্রথম বিস্ফোরণের প্রায় ৫০ মিনিট পর একই এলাকার কাছে দ্বিতীয় আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বাতাসে ধ্বংসাবশেষ ছিটকে পড়ে।

ভোরের পর ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ প্রকাশিত ছবিতে একটি আবাসিক ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়। ভবনের একটি বড় অংশ ধসে গেছে।

আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটানোর দুর্ভোগের কথাও জানান কয়েকজন বাসিন্দা।

৩২ বছর বয়সী চিকিৎসক কাতেরিনা কুচেরিয়াভা এএফপিকে বলেন, ‘এটা খুব কঠিন। আমার সন্তান পুরোপুরি নীরব ও অন্ধকার পরিবেশে ঘুমাতে অভ্যস্ত।’

তিনি বলেন, ‘আমি তাকে কোলে করে নিচে নিয়ে আসি। সে জেগে গেছে। এখন আর ঘুমাচ্ছে না। আমরা আবার ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু বারবার তার মনোযোগ অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। এখানে আলো জ্বলছে, কুকুর ঘেউ ঘেউ করছে, আশপাশে অন্য শিশুরাও রয়েছে।’

-‘আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহার করুন’-

জেলেনস্কি বুধবার বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া বড় ধরণের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ কারণে তিনি ডাবলিন সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি দেশের মানুষকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। নিজেদের, নিজেদের সন্তানদের ও অবশ্যই পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখুন। আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহার করুন ও ইউক্রেনে বিমান হামলার সতর্কবার্তা মেনে চলুন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ‘কিছুদিন ধরেই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে এই বড় ধরণের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে।

এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনা।

রুশ কর্মকর্তারা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বারবার ইউক্রেনীয় হামলার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে মস্কোর দাবি, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের শত শত ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) বুধবার প্রকাশিত এক গবেষণায় জানিয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে ইউক্রেন যুদ্ধে ২০ লক্ষাধিক সামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে মস্কোর বাহিনী।

এদিকে সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার চেষ্টা এখন পর্যন্ত সফল হয়নি।

জেলেনস্কি বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘রাশিয়ার নেতা যুদ্ধ বন্ধ করতে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্ভাব্য সব আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে, এমনকি তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমেও আমরা এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছি যে যুদ্ধের অবসান হতে পারে ও হওয়া উচিত। ইউক্রেন বৈঠক ও অর্থবহ আলোচনার জন্য প্রস্তুত।’

পুতিনের প্রতি ইঙ্গিত করে জেলেনস্কি বলেন, তিনি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে এবং অন্য প্রতিবেশী দেশ ও পুরো ইউরোপের বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসনের পথই বেছে নিচ্ছেন।

সর্বশেষ - জাতীয়

আপনার জন্য নির্বাচিত