জেলায় পূজার আয়োজন বৈচিত্র্যময় করতে সাবুদানা আর ভুট্টাদানার আবরণে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। শহরতলীর চেয়ারম্যান রোডের ঘোষ পাড়াতে শ্রীধর সার্বজনীন পূজামণ্ডপে সাবুদানায় নির্মাণ করা হয়েছে প্রতিমা। শহরের রাণী ভবানী রাজবাড়ি চত্বরে রামচন্দ্র মন্দিরের পূজামন্ডপের প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে ভুট্টাদানায়। পূজার প্রথম দিনে গতকাল শুক্রবার রাতে হাজারো দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে রামচন্দ্র পূজামণ্ডপে। অনেকে আসেন অঞ্জলি দিতে, অনেকে আসেন ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা দেখতে। বিশেষ করে নারী এবং শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। শিশুরা মণ্ডপে গানের ছন্দে নাচতে থাকে। মধ্যরাত পর্যন্ত মণ্ডপে ছিল উৎসবের আমেজ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। একজন পুলিশ সদস্য ছাড়াও ছয়জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন এই মণ্ডপে। প্রতিমা শিল্পীর প্রতিমা তৈরির পর সম্পূর্ণ প্রতিমাটি ভুট্টাদানার আবরণে দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছেন এলাকার দামাল ছেলেরা। প্রায় দুই মাস ধরে সারা রাত জেগে কাজ করেছেন ১৫ জন। এজন্যে তিন মণ ভুট্টা ব্যবহার করা হয়েছে। ভুট্টার মুখের সাদা অংশটুকু একটা একটা করে কাটা হয়েছে। এরপর প্রতিমার ওপরে আঠা ব্যবহার করে পরম যত্নে এসব ভুট্টাদানা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ‘আমাদের দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টা সার্থক হয়েছে, কারণ পূজার প্রথম দিনেই শত শত দর্শনার্থী এই প্রতিমা দর্শনে এসেছেন’ বলে জানান পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিধান চন্দ্র দেব নাথ। দর্শনার্থী শ্রাবণী বসাক বাসস’কে বলেন, ভুট্টাদানার আবরণে নির্মিত প্রতিমা সম্ভবত দেশের মধ্যে এই প্রথম। অনেক যত্নে এই প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিমা শিল্পীর শৈল্পিক এই সৃষ্টি সার্থক হয়েছে। প্রতিমাটি দর্শনার্থীদের মন জয় করেছে। অন্যদিকে, শহরতলীর চেয়ারম্যান রোডে ঘোষ পাড়াতে শ্রীধর সার্বজনীন পূজামণ্ডপে সাবুদানার আবরণে প্রতিমা তৈরিতে ৮৫ কেজি সাবু ব্যবহার করা হয়েছে। রাতদিন পরিশ্রম করেছেন কারিগররা-জানান মণ্ডপ কমিটির সভাপতি সুমন ঘোষ। সাধারণ সম্পাদক তাপস ঘোষ বাসস’কে বলেন, আশা করছি আমাদের মণ্ডপের প্রতিমা দর্শনার্থীদের মন জয় করবে। শ্রীধর সার্বজনীন পূজামন্ডপের পুরোহিত বাবলু গোস্বামী জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় বোধনের মাধ্যমে মা দুর্গাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। বিজয়া দশমীর পূর্ব পর্যন্ত সকল আনুষ্ঠানিকতা চলবে। দর্শনার্থী জয়ন্ত মানী জানান, বৈচিত্র্যময় এই সৃষ্টি। গত বছর নাটোর শহরে পাট আর মুগ ডালের আবরণে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছিল। তারও আগের বছরে ধানের আবরণে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছিল। এবার ভুট্টাদানা আর সাবুদানা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। দেশের কোথাও এমন প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে কি-না তা আমার জানা নেই। নাটোর জেলায় এ বছর ৪০৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে গেছে। শহরের সড়কজুড়ে অসংখ্য তোরণ আর আলোকসজ্জায় সেজেছে যেন সুন্দরী রাত। আর মণ্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের অঞ্জলি নিবেদন, সংগীত আর ঢাকের বাদ্য। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ। আর এই উৎসবকে সুরক্ষা প্রদান করছে প্রত্যেক মণ্ডপে নিয়োজিত রয়েছে পুলিশের এক সদস্যের সাথে ক্ষেত্র বিশেষে আনসারের ছয় থেকে আট সদস্য। পুলিশ আর এসআরবি’র টহল আছে হাতের নাগালেই।



















