পর্দা নামলো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজিত ৮ দিনব্যাপী ‘নতুন নাটকের উৎসব-২০২৬’ এর। আজ সমাপনী দিন ১৯ জুন ২০২৬, সন্ধ্যা ০৭ টায় জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হয় শব্দ থিয়েটার এর নাটক ‘দি গ্রেট স্মাগলার’। প্রযোজনাটি নির্দেশনা দিয়েছেন মাস্উদ জামান। নাটক মঞ্চায়নের পূর্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে উৎসবে অংশগ্রহণকারী নতুন নাট্যনির্দেশকদের কর্মশালার সনদপত্র প্রদান করা হয়। “নতুন নাটক নতুন সময়- মঞ্চে জাগুক মানুষের কথা” শিরোনামে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় দেশীয় নাট্য সংস্কৃতির বিকাশ, প্রচার, প্রসার ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১২ – ১৯ জুন ২০২৬ পর্যন্ত এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে প্রতিদিন একটি করে নাটক প্রদর্শিত হয়। এছাড়াও উৎসব উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলা নাটকের গান’, যেখানে প্রতিদিন একটি করে দল অংশগ্রহণ করে। নাটক ‘দি গ্রেট স্মাগলার’ ফিলিস্তিন নামটি শুনলেই আমাদের মনে আসে সংঘাত, নিপীড়ন ও ভূমি হারানোর বেদনা। কিন্তু এসবের আড়ালে রয়ে গেছে সাধারণ মানুষের টিকে থাকার অজস্র ছোট ছোট গল্প, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রায়শই উপেক্ষিত। ‘দি গ্রেট স্মাগলার’ তেমনই এক গোপন ইতিহাসের দলিল। এই নাটকে আমরা কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বা প্রোপাগান্ডা পরিবেশন করছি না, বরং কঠিন এক বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়ে মানুষের সাহস, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং গভীর আত্মত্যাগের মর্মস্পর্শী আখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা কেবল ভুক্তভোগী নন, তাঁরা জীবনকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিরন্তর সংগ্রামও করে চলেছেন। যখন জীবনের মৌলিক চাহিদা খাদ্য, ওষুধ বা শিক্ষার উপকরণও নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন সেই নিয়ন্ত্রণকে পাশ কাটিয়ে মানবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা কি ‘অপরাধ’? এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র, যাকে দখলদার ও বর্বর ইসরায়েল বাহিনী স্মাগলার হিসেবে চিহ্নিত করে। কিন্তু সে আসলে একজন প্রতীক। সে এমন কিছু একটা পাচার করে যা ফিলিস্তিনিদের আশা, জীবন এবং মুক্তভাবে নিঃশ্বাস নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করে। তার এই ‘চোরাচালান’ সাধারণ মানুষের কাছে জীবনধারণের শেষ অবলম্বন হয়ে ওঠে। নাটকের প্রতিটি সংলাপে সেই নৈতিক অবস্থান ও মানবিক জরুরি বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাসউদ জামান, মনিরা খাতুন, মির্জা রিয়াজ, শামসুদ্দীন হোসাইন, তন্দ্রা সাহা, পৃথ্বীরাজ দাস, পুতুল, বায়জিদ হোসেন, মো: মারুফ হোসেন, মো: হাসিবুর রহমান, মো: তানভীর হাসান, ইমারুল গাজী, রিফাত মাহমুদ, সোহেল রানা আকাশ, পিয়াশ মন্ডল, অসীম দাস, বনিফেস, শাহিদুর রহমান ও অরুণ মজুমদার। নাটকটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সোহেল মাসুদ হাসান টিটো, প্রযোজনা অধিকর্তা মোস্তাক আহমেদ পলাশ, প্রযোজনা ব্যবস্থাপনায় জায়েদ মোহাম্মদ খালেদ, সহকারী নির্দেশনায় রিফাত মাহমুদ, নাট্য পরামর্শক ডা: মো: আবু বকর সিদ্দিক এবং প্রযোজনা সমন্বয়ক সোহেল রানা। এরপূর্বে সন্ধ্যা ৬.০০ টা থেকে ৬.৪৫ মিনিট পর্যন্ত জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলের লবিতে উৎসব উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলা নাটকের গান’। এতে অংশগ্রহণ করেন ‘উদীচী নাটক বিভাগ’। এছাড়াও উৎসবের অংশ হিসেবে নানাবিধ আয়োজনের পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ‘উদীয়মান নাট্যনির্দেশকদের জন্য একটি বিশেষ কর্মশালা’। দিনব্যাপী এই কর্মশালাটি জাতীয় নাট্যশালার ইন্টারন্যাশনাল ডিজিটাল কালচারাল আর্কাইভ কক্ষে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ০৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।



















