নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্তমান সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ নির্বাহী প্রকৌশলীদের যে কয়েকটি নাম আলোচিত মধ্যে মাসুদ রানা নামটি অন্যতম। অল্প বয়সী নারী নিয়ে রিসোর্ট বা ফাইভ স্টার হোটেলে রাত্রে সময় কাটানো যার অভ্যাস। গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ নিয়ে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কখনো তিনি নিজেকে পরিচয় দেন প্রধান প্রকৌশলীর ভাগ্নি জামাই হিসাবে, আবার কখনো পরিচয় দেন জুলাই যোদ্ধা, আবার কখনো পরিচয় দেন মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের আত্মীয়। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ কর্মরত থাকাকালে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিপুল অঙ্কের টেন্ডারে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন, টেন্ডারসংক্রান্ত তথ্য ফাঁস, ঠিকাদার নির্বাচনে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা আদায় করেছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে,বর্তমানে ডিভিশন ৪ এ দায়িত্ব থাকা অবস্থায় টেন্ডার অনুমোদনের আগেই ঠিকাদারদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ, কাজ সম্পন্ন না করেও ভুয়া ভাউচার ও বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলনের মতো গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্রের দাবি, শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন এক সাবেক সচিবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি প্রশাসনিকভাবে বিশেষ প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।
একই সঙ্গে সাবেক এক প্রধান প্রকৌশলীর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত অবস্থায় তিনি নির্ধারিত বরাদ্দের বাইরে নানা ব্যয় দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করেছেন। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অতীতে তাকে একাধিকবার বদলি করা হলেও কার্যকর তদন্ত বা দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না—সে প্রশ্নও উঠেছে। এদিকে, নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানার ব্যক্তিগত জীবন ও আচরণ নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ প্রচলিত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরূপণে যথাযথ তদন্তই একমাত্র গ্রহণযোগ্য উপায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জনস্বার্থে এখন প্রশ্ন উঠেছে—যদি উত্থাপিত অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন হয়, তবে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়মুক্ত ঘোষণা করা হোক। আর যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর প্রতি সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি—নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহের বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে সম্পদের উৎস, টেন্ডার প্রক্রিয়া, বিল-ভাউচার, সরকারি অর্থ ব্যয় এবং অভিযোগে উল্লিখিত সকল তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক।
স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হলে শুধু একটি অভিযোগের নিষ্পত্তিই হবে না, বরং গণপূর্ত অধিদপ্তরে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিরও বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুলা দুদকের মাধ্যমে তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে তাকে শাস্তি মূলক বদলির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।



















